জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় তেল সংকটে সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৬৫ বার পড়া হয়েছে
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় তেল সংকটে সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় তেল সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকেরা সড়ক অবরোধ করেছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার মোশারফগঞ্জ এলাকার মেসার্স ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে মোশারফগঞ্জ এলাকার ওই ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ করা হবে। এ খবর পেয়ে শনিবার মধ্যরাত থেকেই বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল চালক সেখানে ভিড় জমান। অনেকেই রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন তেল নেওয়ার আশায়।
কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রোববার সকালে পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের কাছে কোনো তেল মজুত নেই এবং এখনো তেল এসে পৌঁছায়নি। এ খবর শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অপেক্ষমাণ চালকেরা। একপর্যায়ে তারা দেওয়ানগঞ্জ–জামালপুর সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ গড়ে তোলেন।
অবরোধের ফলে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেকেই বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
অবরোধে অংশ নেওয়া জুলফিকার আলী মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা শুনেছি পাম্পে তেল আছে, তাই রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু সকালে এসে বলা হচ্ছে তেল নেই। যদি তেল না-ই থাকে, তাহলে আগে থেকেই জানানো উচিত ছিল।”
এদিকে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যাত্রী আরিফা (২১) বলেন,
“দেশে তেলের সংকট এখন নতুন কিছু নয়, এটি যেন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এভাবে সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কোনো সমাধান হতে পারে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী জানান,
“আমাদের পাম্পে বর্তমানে কোনো তেল নেই। আমরা কাউকে বলিনি যে আজ তেল দেওয়া হবে। কোথা থেকে এই গুজব ছড়িয়েছে, তা আমাদের জানা নেই। তেল আসার কথা থাকলেও এখনো পৌঁছায়নি।”
খবর পেয়ে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম গাজী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তারা দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।












