জামালপুর আদালতে তাণ্ডব: সাংবাদিক মারুফকে অপহরণের চেষ্টা, হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে
জামালপুর আদালত প্রাঙ্গণে দিনদুপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আদালতে হাজিরা দিতে এসে হামলা, মারধর ও অপহরণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন বকশীগঞ্জ মিডিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ মারুফ হাসান।
রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে, যা আদালত চত্বরে উপস্থিত আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
মামলার পটভূমি:
মামলার সূত্রে জানা যায়, এনআই অ্যাক্টের আওতায় দায়ের করা একটি চেক ডিজঅনার মামলায় প্রায় ৯ লাখ টাকা পাওনা বাবদ বিবাদী মোঃ আরিফুল ইসলাম মারুফ হাসানকে একটি চেক প্রদান করেন।
গত ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে ২৯ এপ্রিল তা ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নোটিশ প্রদান শেষে মামলা দায়ের করা হয়, যা প্রায় এক বছর ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মারুফ হাসানের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় আদালত গেটের সামনে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল বিবাদী আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা।
এ সময় তারা হঠাৎ তাকে ঘিরে ধরে এবং জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা তার পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে এবং পকেটে থাকা মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
হঠাৎ এই হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মারুফ হাসান।
জনতার হস্তক্ষেপে রক্ষা:
মারুফ হাসান জানান, তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে বড় ধরনের অপহরণের ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি।
পরবর্তীতে তিনি দ্রুত আদালতে ফিরে গিয়ে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের শরণাপন্ন হন এবং পুরো ঘটনা অবহিত করেন।
আদালতের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ:
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে বিবাদীপক্ষের আইনজীবীকে তলব করেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিবাদীপক্ষের নীরবতা
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিবাদীপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা বিষয়টিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
সাংবাদিক মহলের উদ্বেগ:
ঘটনার পর জামালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,
“আদালত চত্বরে একজন সাংবাদিক ও প্রেসক্লাব নেতার ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।”
তিনি দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন:
দিনদুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে এমন দুঃসাহসিক হামলার ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং বিচারপ্রার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।





















