রংপুরে আন্দোলনের মুখে খোলাহাটি মেলা বন্ধ, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:২৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আন্দোলনের মুখে খোলাহাটি মেলা বন্ধ, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ
রংপুরের বদরগঞ্জ ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী খোলাহাটি হাসিনানগর এলাকায় আয়োজিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা অবশেষে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মেলায় লটারি ও জুয়া পরিচালনার অভিযোগ, স্থানীয়দের আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম এবং পরবর্তী সময়ে মেলা প্রাঙ্গণে ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মেলা শুরুর পর থেকেই এর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে মেলার আড়ালে লটারি ও জুয়ার আয়োজন করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ শুরু করেন স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ (শুক্রবার) লটারি ও জুয়া বন্ধের দাবিতে মেলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে প্রশাসনের কাছে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিন দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
আল্টিমেটামের সময়সীমা পার হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ক্ষোভ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, মেলা বন্ধ হওয়ার আগে ও বন্ধের প্রক্রিয়া চলাকালে মেলা প্রাঙ্গণে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে মেলার কয়েকটি দোকানে বিশৃঙ্খলা ও ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু দোকান থেকে পণ্য ও মালামাল জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
মেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে পড়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী মেলায় দোকান স্থাপন, পরিবহন ও পণ্য কেনার পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই বিনিয়োগ ও পণ্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেলা আয়োজনের শুরু থেকেই প্রশাসনিক তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন ছিল। তাদের দাবি, মেলা বন্ধের পাশাপাশি ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য ও মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ, নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।এদিকে, মেলায় লটারি ও জুয়া পরিচালনার অভিযোগের সত্যতা, মেলা বন্ধের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয় বিভিন্ন মহল থেকে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
























