নলডাঙ্গায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও স্বর্ণ ব্যবসায়ী দম্পতি- বিচারের দাবীতে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ১১:০৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
নলডাঙ্গায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও স্বর্ণ ব্যবসায়ী দম্পতি- বিচারের দাবীতে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন
নাটোরের নলডাঙ্গা পৌর বাজারে প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও এর অভিযোগে তন্নী জুয়েলার্সের সত্ত্বাধিকারী স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিমাই চন্দ্র তামেলী ও তার স্ত্রী চন্দনা রানী দম্পতির বিরুদ্ধে বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বেলা সাড়ে এগারোটায় নলডাঙ্গা থানা মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতারণার শিকার ব্যক্তি ও এনজিও কর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, নিমাই চন্দ্র তামেলী সহ তার স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও অর্থ নিয়ে উধাও হয়েছেন। তাঁদের দাবি, অনেকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্বর্ণালংকার কিনে অভিযুক্তদের কাছে দিয়েছিলেন। এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য এনজিও কর্মীদের চাপের মুখে পড়ে তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই তাঁদের সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত এক এনজিওকর্মী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপন করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্ত নিমাই চন্দ্র তামেলীর বাড়ি পাবনা জেলার আমিনপুর থানার জাতসাখিনী ইউনিয়নের নাটিয়াবাড়ী এলাকা স্কুল সংলগ্ন স্থানে। তাঁরা অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি অভিযুক্তদের সন্ধান বা আটকে সহায়তা করতে পারলে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও মানববন্ধন থেকে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য ০১৭২৯-৬১১৬৯৩ নম্বরটি উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় নলডাঙ্গা উপজেলার কুটুরীপাড়া এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) বাদী হয়ে নাটোরের আমলী আদালত এবং পাবনা জেলার আমিনপুর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান। মামলার অভিযোগে শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, নিমাই চন্দ্র তামেলী তাঁর সঙ্গে স্বর্ণ ব্যবসার সূত্রে পরিচিত হন। সেই পরিচয়ের সুবাদে বিশ্বাস অর্জন করে তাঁর কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তা পরিশোধ না করে টালবাহানা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে পাওনা টাকা চাইতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিমাই চন্দ্র তামেলীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নিমাই চন্দ্র তামেলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য
নেয়ার জন্য তাদের ভাড়া বাসা ও দোকানে গিয়ে তালাবদ্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীরা তাঁদের পাওনা টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এবিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনোয়ার জাহান জানান, এ ঘটনা আমি মৌখিক ভাবে অবগত হয়েছি। তবে লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।















