বকশিগঞ্জে বাসে মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহারে জনমনে গুঞ্জন
- আপডেট সময় : ০৮:৫০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে
বকশীগঞ্জে যমুনা বাসে আল্পনা আক্তার নামে মহিলাকে ‘ধর্ষণের অভিযোগ’ ঘিরে নাটকীয় মোড়
অভিযোগ প্রত্যাহার, আপসের গুঞ্জন; জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জে যাত্রীবাহী যমুনা বাসে সংঘটিত কথিত ‘গণধর্ষণের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই অভিযোগ থেকে সরে দাঁড়ান অভিযোগকারী নারী। পরে তিনি নিজেই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে স্বীকার করায় পুরো ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, সন্দেহ ও বিতর্ক।
অভিযোগকারী আল্পনা আক্তার, যিনি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কর্নঝোড়া এলাকার বাসিন্দা, গত বুধবার ঢাকাগামী একটি বাসে ভয়াবহ অভিযোগ তোলেন। তার দাবি ছিল—যমুনা পরিবহনের একটি বাসে সুপারভাইজার পাখিসহ ৫-৬ জন ব্যক্তি তার শিশু সন্তানকে জিম্মি করে তাকে গণধর্ষণ করে।
এই অভিযোগ দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শেরপুরের আখের বাজার এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটি আটকে দেয় এবং পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। সাংবাদিক ও স্থানীয়দের সামনে আল্পনা আক্তার স্বীকার করেন, মূলত বাসের ভাড়া নিয়ে সুপারভাইজারের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। সেই রাগের বশবর্তী হয়ে তিনি এমন গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন, যা বাস্তবে ঘটেনি।
কিন্তু এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বাসের মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গোপন আপস হয়েছে। প্রায় দুই লাখ টাকার বিনিময়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগও ঘুরে বেড়াচ্ছে জনমুখে, যদিও এর কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনও পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুতর অপরাধকে ব্যক্তিগত বিরোধ বা অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে বাধার সম্মুখীন হতে পারেন এবং সমাজে সত্যিকারের অভিযোগ নিয়েও সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা না করে।
এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে ঘটনাস্থল বকশীগঞ্জ এলাকায় হওয়ায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সমাপনী মন্তব্য:
ঘটনাটি এখনো রহস্যে ঘেরা। অভিযোগটি সত্যিই মিথ্যা ছিল, নাকি কোনো গোপন সমঝোতার ফল—তা নিশ্চিত হতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত বাসের হেলপার ও আল্পনা আক্তারকে ডিএনএ টেস্ট করলে সত্য উদঘাটন হবে বলে মনে করেন স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি, যাতে সমাজে আইনের প্রতি আস্থা অটুট থাকে।





















