নলডাঙ্গায় ৪০ বছরের এতিম ব্রিজ- সংযোগ রাস্তা না থাকায় ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
নাটোরের নলডাঙ্গায় ৪০ বছর ধরে কালের স্বাক্ষী এই এতিম সেতু দাঁড়িয়ে থাকলেও সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে কাজে আসছে না সেতুটি। সড়ক না থাকায় কয়েক গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সেতু গুলো রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সেতুগুলো কারা নির্মান করেছিলো,সঠিকভাবে কেউ বলতেও পারেনা। নতুন করে সড়ক নির্মাণের দাবি করেছেন এলাকবাসী।
জানা যায়,নাটোরের নলডাঙ্গায় ৪০ বছর পূর্বে বন্যায় সড়ক বিলীন হলেও মেলেনি সংস্কার,সড়ক থেকে ২০ ফিট উপরে কালের সাক্ষী হয়ে ৪০ বছর ধরে দাড়িয়ে আছে এতিম সেতু গুলো।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের ভট্টপাড়া হতে খাজুরা ইউনিয়নে চলাচলের জন্য প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটারের একমাত্র সড়ক ৪০ বছরেও সংস্কার হয়নি। এক সময় এখানে চলাচলের জন্য সড়ক থাকলেও বিগত ৪০ বছর আগেই বন্যায় তা বিলিন হয়ে যায়। কিন্তু,কালের সাক্ষী হয়ে এখনও দাড়িয়ে আছে এই পথে স্থাপিত সেতুগুলো। জনপ্রতিনিধিসহ নেতাদের কাছে এলাকাবাসী বারবার জানালে, নেতারা কথা দিয়ে কেউ কথা রাখেনি!
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থায়। চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবা থেকে বঞ্চিত এই এলাকার জনসাধারণ। এমনকি বর্ষার সময় চলাচলের জন্য নৌকা থাকলেও দুর্ঘটনার আশংকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে চান না। আবার শুকনো মৌসুমে চলাচলের জন্য কৃষি জমির মালিকদের বাঁধার সমুক্ষীন হতে হয় দুর্গম ও অবহেলিত এই জনপদের মানুষদের।
স্থানীয় এলাকাবাসী, মাহবুর শেখ,আব্দুস সাত্তার, মেছের আলী,রাশেদা বেগমসহ অনেক বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে ব্রীজগুলো নিমার্ণ করা হয়। কিন্তু সড়ক না থাকায় কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। গ্রামের মানুষদের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে নষ্ঠ হচ্ছে সময়,অর্থ এবং শ্রমঘণ্টা। এখনও অনেকটা যোগাযোগ বঞ্চিত রয়েছে নুরিয়াগাছা,মহিষডাঙ্গাসহ আশেপাশের গ্রামের মানুষগুলো। অতি দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানান তারা।
ভট্টপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদ বলেন, রাস্তাটি না থাকায় অনেক দূভোগ সৃষ্টি হয়। স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুকি নিয়ে স্কুলে যায়। জরুরী অবস্থায় রোগীদের হাসপাতালে নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়া বর্ষাকালে ঐতিহ্যবাহী বিল হালতি জুড়ে পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে মিনি কক্সবাজারে আদলে পরিনত হয়। এসময় দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকদের সমারোহ ঘটে। কিন্তু উচু এই ব্রীজটি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় নৌকা ভ্রমন করতে গিয়ে অনেক পর্যটক দূর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। অথচ কালের স্বাক্ষী এই ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মান হলে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হতো।
নাটোরের গণমানুষের নেতা, (নাটোর – নলডাঙ্গা) – ২ আসনের নির্বাচিত এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বহুকাঙ্ক্ষিত এই ব্রীজটির সংস্কারসহ সংযোগ সড়ক নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।













